সেক্স স্টোরি
সেক্স স্টোরি
মিতালি, আর তনিমা অফিস থেকে এক সাথেই ফিরে যায় বারসাত। এ পারা ওপাড়ার দুই বান্ধবী আজ ৪ বছর হলো একই অফিসে কাজ করে। মিতালি এক্যাউন্ট দেখা শুনা করে আর তনিমা রেসেপ্সানিস্ট। মাঝে মাঝে গোবিন্দ সাথ দেয় অজয় নগর থেকে। গোবিন্দ দত্ত পাড়ার ছেলে। গড়িয়া থেকে বারাসাতের ভালো কোনো বাস নেই। কিন্তু বারাসাত গড়িয়া র একটা প্রাইভেট বাস চলে। বাসে ড্রাইভার থেকে কন্ডাক্টার সবাই এদের চেনে। তাই বাম এ উঠলেই বলে দেয় দিদি এদিকে দাঁড়ান খালি হবে। ৪:৩০ টেই অফিস ছুটি হয় রোজ।
কিন্তু আজ একটু আগেই বেরিয়ে গেল মিতালি আর তনিমা মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েরা কাজ সেরেই বাড়ি ফেরে । আজ মিতালি ভীষণ চাপা স্বভাবের মেয়ে। আর তানিমাকেই সে শুধু মনের কথা বলে। আসছে রবিবার তাকে ডানকুনি থেকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে। তাই মিতালি বারাসাত বাজার থেকে নতুন কাপড় দোকানের টেলার খুব বদমাইশ মাদবার অছিলায় অনেক বার দুধে হাথ দিয়েছে তাই এবার তনিমা কে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। দোকান বন্ধ করে দেবে ৭ টার সময়।
তেতুলতলার ব্যাক ঘুরেই বড় রাস্তা, আর দু মিনিট হাটলেই গড়িয়া বারাসাত বাস স্ট্যান্ড। ব্যাক ঘুরতেই তনিমার মুখ হাঁ হয়ে গেল। লোক তাড়া তাড়ি বাড়ি চলে যাচ্ছে, রাফ নামিয়েছে, পুলিশে পুলিশ চারি দিকে, মাইকে কি যেন ঘোষণা হচ্ছে। মন দিয়ে শুনেই মিতালীর গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। মনসুর আর গচ্ছুর গ্যাং এর সামনা সামনি লড়াই হয়েছে ১২ জন মারা গেছে ফুটবল খেলা নিয়ে, এআর পোট মোড়ে বোমাবাজি হচ্ছে, পুলিশ তাই সন্ধ্যে ৬ তা থেকে কারফিউ ডেকেছে ২৪ ঘন্টার। সল্টলেকে বাড়ি ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
তাই মাইকে ঘোষণা চলছে লাগাতার যে যার বাড়ি যাতে চলে যায় যেন ৬ তার মধ্যে। তনিমার হাথ ধরে মিতালি বলে ওঠে "কি হবে রে আমাদের তো কলকাতায় কেউ নেই যে এখুনি তার বাড়ি যাব, ৬ টার মধ্যে কি বারাসাত বাসে পৌছানো যাবে??" তনিমা বলল চল এক কাজ করি আগে বাস স্টান্ডে গিয়ে অবস্তা দেখি না হলে অফিসের পিয়ালী দি আছে না, শুনেছি ঢাকুরিয়ায় ওনার বাড়ি, আজ রাতের জন্য ওখানে চলে যাব। কথা বলতে বলতে তনিমার মোবাইল বেজে উঠলো। " মনা তোরা কোথায় আছিস? রাস্তায় বেরোস না ব্যারাকপুরের দিকে শুনলাম রাইট হচ্ছে।
মিতালি কি তোর সাখে? ওর মা এখানে আছে ওকে তানসা ফোনে দেয় মিতালি হ্যাল্লো মা চিন্তা করো না আমরা ভাবছি যেতে না পারলে পিয়ালিদির বাড়িতেই থাকব। না না কোনো ভয় নেই বরফ আমরা বেশি অসুবিধা দেখলে বারাসাতের দিকেই যাব না"। দুজনে হেঁটে হেঁটে ভিড়ে ঠাসা বাস স্ট্যান্ড-এর দিকে আসতেই শুনতে পেল নানান কথা। এরকম কিছু হলে লোকের গল্প বানাবার একটা সুযোগ চলে আসে। ঘটনা ঘটুক না ঘটুক গুজবেই বেশি করে যেন ঘটনা ঘটে যায়। এক জন জানিয়ে গেল দিদি বারাসাতের শেষ বাস ছাড়বে ১০ মিনিটে। পারলে এখনি উঠে পড়ুন। বাসের সামনে দাঁড়িয়ে বুক কেঁপে উঠলো তনিমার। পুরো বাস যেন মাংশে ঠাসা। এর মধ্যে ঢোকা মানে নিঘাত মৃত্যু। লোকে পোকার মত কিল বিল করে ঠেসে রয়েছে, পা নাড়ার বোধ হয় জায়গা নেই।
